মেডিকেল ভর্তি — পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্ন ও সমাধান
মেডিকেল ভর্তি ভর্তি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান অংশ থেকে ৫৩৫টি প্রশ্ন, প্রতিটির সঠিক উত্তর আর পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ।
-
৪৮১
কোনটি অপ্রত্যাগামী প্রক্রিয়া নয়?
- ক বিকিরণ
- খ পরিচলন
- গ ব্যাপন
- ঘ প্রতিসরণ
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) প্রতিসরণ
অপ্রত্যাগামী প্রক্রিয়া কখনো নিজে নিজে উল্টো দিকে ঠিক আগের পথে ফিরে যায় না, তাপের পরিবহন, পরিচলন ও বিকিরণ (উষ্ণ থেকে শীতল বস্তুতে), গ্যাসের ব্যাপন, ঘর্ষণে তাপ উৎপাদন, বিস্ফোরণ, বৈদ্যুতিক তাপ, সবই অপ্রত্যাগামী; প্রকৃতির স্বতঃস্ফূর্ত সব প্রক্রিয়া অপ্রত্যাগামী (এনট্রপি বাড়ে)।
আলোর প্রতিসরণ প্রত্যাগামী: আলোর পথের প্রত্যাগমনশীলতা নীতি অনুযায়ী প্রতিসৃত রশ্মি উল্টো পথে পাঠালে ঠিক আপতিত রশ্মির পথে ফিরে যায়, 1n2 × 2n1 = 1।
প্রত্যাগামী প্রক্রিয়ার উদাহরণ: অতি ধীর সমোষ্ণ বা রুদ্ধতাপীয় প্রসারণ-সংকোচন, ঘর্ষণহীন দোলক, কার্নো চক্র। -
৪৮২
কোনটি গতির প্রকারভেদ নয়?
- ক দোলন গতি
- খ ঊর্ধ্ব গতি
- গ চলন গতি
- ঘ ঘূর্ণন গতি
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ঊর্ধ্ব গতি
'ঊর্ধ্ব গতি' গতির কোনো প্রকারভেদ নয়, এটি কেবল গতির দিক নির্দেশ করে।
গতির প্রকারভেদ: চলন গতি (বস্তুর সব কণা একই সময়ে একই দিকে সমান দূরত্ব যায়), ঘূর্ণন গতি (নির্দিষ্ট অক্ষের চারদিকে বৃত্তাকার পথে), চলন-ঘূর্ণন বা জটিল গতি (চলন্ত চাকা), পর্যাবৃত্ত গতি, দোলন বা স্পন্দন গতি, এলোমেলো গতি।
পর্যাবৃত্ত গতি: নির্দিষ্ট সময় পরপর একই অবস্থায় ফিরে আসে (ঘড়ির কাঁটা, গ্রহের গতি)।
দোলন গতি: সাম্যাবস্থার দুই পাশে পর্যাবৃত্ত গতি (সরল দোলক)। সব দোলন গতি পর্যাবৃত্ত, কিন্তু সব পর্যাবৃত্ত গতি দোলন গতি নয়। -
৪৮৩
কোনটি ভেক্টরের প্রকারভেদ নয়?
- ক সমতলীয় ভেক্টর
- খ সমান ভেক্টর
- গ ঋণ ভেক্টর
- ঘ ধন ভেক্টর
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) ধন ভেক্টর
ভেক্টরের প্রকারভেদ: সমান ভেক্টর (মান ও দিক একই), ঋণ ভেক্টর (মান সমান, দিক বিপরীত), সমতলীয় ভেক্টর (একই তলে অবস্থিত), সমরেখ ভেক্টর, একক ভেক্টর (মান 1), শূন্য/নাল ভেক্টর (মান 0), অবস্থান ভেক্টর, সদৃশ ও বিসদৃশ ভেক্টর, স্বাধীন ও সীমাবদ্ধ ভেক্টর, অক্ষীয় ও মেরু ভেক্টর।
'ধন ভেক্টর' বলে আলাদা কোনো প্রকার নেই, যেকোনো ভেক্টর A-এর ঋণ ভেক্টর −A, কিন্তু 'ধন ভেক্টর' শ্রেণিবিভাগে নেই।
একক ভেক্টর a = A|A|; কার্তেসীয় একক ভেক্টর i, j, k। -
৪৮৪
কোনটি আলোক তড়িৎকোষ নয়?
- ক আলোক বিভব কোষ
- খ আলোক নিঃসরণ কোষ
- গ আলোক প্রতিসরণ কোষ
- ঘ আলোক পরিবাহী কোষ
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) আলোক প্রতিসরণ কোষ
'আলোক প্রতিসরণ কোষ' নামে কোনো আলোক তড়িৎ কোষ নেই, তাই গ সঠিক।
আলোক তড়িৎ কোষ 3 প্রকার: আলোক নিঃসরণ কোষ (photoemissive: আলো পড়লে ক্যাথোড থেকে ইলেকট্রন নিঃসরণ, যেমন সিজিয়াম, পটাশিয়াম ক্যাথোড), আলোক পরিবাহী কোষ (photoconductive: আলোয় অর্ধপরিবাহীর রোধ কমে, যেমন সেলেনিয়াম, CdS), আলোক বিভব কোষ (photovoltaic: আলোয় সরাসরি তড়িচ্চালক শক্তি উৎপন্ন, যেমন সৌরকোষ)।
ভিত্তি: আলোক তড়িৎ ক্রিয়া, hf = W0 + 12 mv2max।
ব্যবহার: স্বয়ংক্রিয় দরজা, চোর-সংকেত, সিনেমার শব্দ পুনরুৎপাদন, লাইট মিটার। -
৪৮৫
AVO তিনটি শব্দের দ্বারা আমরা বুঝি-
- ক অ্যানালগ, ভোল্ট, অলটারনেটর
- খ অ্যাম্পিয়ার, ভোল্ট, ওহম
- গ অ্যাম্পিয়ার, ভেলোসিটি, ওহম
- ঘ অ্যানালগ, ভোল্ট, ওহম
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) অ্যাম্পিয়ার, ভোল্ট, ওহম
AVO মিটার = Ampere-Volt-Ohm মিটার; একই যন্ত্রে তড়িৎপ্রবাহ (অ্যাম্পিয়ার), বিভব পার্থক্য (ভোল্ট) ও রোধ (ওহম) মাপা যায়। একে মাল্টিমিটারও বলে।
মূল অংশ চলকুণ্ডলী গ্যালভানোমিটার: সান্ট (সমান্তরাল স্বল্প রোধ) যুক্ত করলে অ্যামিটার, উচ্চ রোধ শ্রেণিতে যুক্ত করলে ভোল্টমিটার, অভ্যন্তরীণ ব্যাটারি দিয়ে ওহমমিটার।
অ্যামিটার বর্তনীতে শ্রেণিতে (রোধ খুব কম), ভোল্টমিটার সমান্তরালে (রোধ খুব বেশি) যুক্ত করা হয়। -
৪৮৬
কোন যন্ত্রটি প্রকোষ্ঠ পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয় না?
- ক গ্লোভার টাওয়ার
- খ নাইটার ওভেন
- গ পিরাইট চুল্লী
- ঘ সৌর চুল্লী
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) সৌর চুল্লী
প্রকোষ্ঠ পদ্ধতিতে (লেড চেম্বার প্রক্রিয়া) সালফিউরিক এসিড উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ: পিরাইট চুল্লি (FeS2 পুড়িয়ে SO2 উৎপাদন), নাইটার ওভেন (NaNO3 থেকে নাইট্রিক এসিড/নাইট্রোজেন অক্সাইড, প্রভাবক), গ্লোভার টাওয়ার (গ্যাস শীতলীকরণ ও নাইট্রোজেন অক্সাইড পুনরুদ্ধার), সীসার প্রকোষ্ঠ, গে-লুসাক টাওয়ার।
সৌর চুল্লি: অবতল দর্পণ বা লেন্স দিয়ে সূর্যের বিকীর্ণ তাপ ফোকাসে কেন্দ্রীভূত করে উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টি করা হয়, এটি প্রকোষ্ঠ পদ্ধতির অংশ নয়।
বিকীর্ণ তাপ শূন্য মাধ্যমে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গরূপে চলে, কালো ও অমসৃণ তল বেশি শোষণ করে। -
৪৮৭
কোনটি বিদ্যুৎ কোষের সমবায় নয়?
- ক মিশ্র সমবায়
- খ সমান্তরাল সমবায়
- গ শ্রেণী সমবায়
- ঘ দ্বি-মুখী সমবায়
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) দ্বি-মুখী সমবায়
তড়িৎ কোষের সমবায় 3 প্রকার: শ্রেণি, সমান্তরাল ও মিশ্র সমবায়; 'দ্বি-মুখী সমবায়' বলে কিছু নেই।
শ্রেণি (n কোষ, প্রতিটি E, r): I = nER + nr; বাহ্যিক রোধ R ≫ r হলে সুবিধাজনক, প্রবাহ প্রায় n গুণ।
সমান্তরাল (n কোষ): I = ER + rn; R ≪ r হলে সুবিধাজনক।
মিশ্র (m সারি, প্রতি সারিতে n কোষ): I = mnEmR + nr; সর্বোচ্চ প্রবাহ যখন R = nrm (বাহ্যিক রোধ = মোট অভ্যন্তরীণ রোধ)। -
৪৮৮
রোধের সমবায় কত প্রকার?
- ক 3
- খ 1
- গ 4
- ঘ 2
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) 2
রোধের সমবায় মূলত 2 প্রকার: শ্রেণি ও সমান্তরাল; এ দুয়ের সমন্বয়ে মিশ্র সমবায় গঠিত হয়।
শ্রেণি সমবায়ে প্রতিটি রোধে একই প্রবাহ I, মোট বিভব পার্থক্য V = V1 + V2 + V3, তুল্য রোধ R = R1 + R2 + R3।
সমান্তরাল সমবায়ে প্রতিটি রোধে একই বিভব পার্থক্য V, মোট প্রবাহ I = I1 + I2 + I3, 1R = 1R1 + 1R2 + 1R3।
n টি সমান রোধ r সমান্তরালে থাকলে R = rn, শ্রেণিতে R = nr। -
৪৮৯
কোনটির ওপর আবিষ্ট চার্জ নির্ভর করে না?
- ক আবিষ্ট বস্তুর প্রকৃতি
- খ আবিষ্ট বস্তুর ক্ষেত্রফল
- গ আবেশী চার্জের পরিমাণ
- ঘ আবিষ্ট বস্তুর ওজন
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) আবিষ্ট বস্তুর ওজন
তড়িৎ আবেশ: আহিত বস্তুকে অনাহিত পরিবাহীর কাছে আনলে নিকট প্রান্তে বিপরীত ও দূর প্রান্তে সমজাতীয় আধান উৎপন্ন হয়।
আবিষ্ট আধানের পরিমাণ নির্ভর করে, আবেশী আধানের পরিমাণ (বেশি হলে বেশি), আবেশী ও আবিষ্ট বস্তুর দূরত্ব (কাছে হলে বেশি), আবিষ্ট বস্তুর প্রকৃতি/উপাদান (পরিবাহিতা), আবিষ্ট বস্তুর ক্ষেত্রফল ও আকার, মধ্যবর্তী মাধ্যমের প্রকৃতি (পরাবৈদ্যুতিক ধ্রুবক)।
আবিষ্ট বস্তুর ওজন বা ভরের সাথে আবিষ্ট আধানের কোনো সম্পর্ক নেই।
আবিষ্ট আধান কখনো আবেশী আধানের চেয়ে বেশি হয় না; ফ্যারাডের বরফপাত্র পরীক্ষায় সমান পাওয়া যায়। -
৪৯০
গ্রিক দার্শনিক থেলিস কত সালে বিদ্যুৎ প্রথম লক্ষ্য করেন?
- ক 700 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
- খ 650 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
- গ 600 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
- ঘ 750 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) 600 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ
খ্রিষ্টপূর্ব 600 অব্দে গ্রিক দার্শনিক থেলিস (মাইলেটাসের) প্রথম লক্ষ করেন, অ্যাম্বার পশম দিয়ে ঘষলে তা খড়কুটো, পালকের মতো হালকা বস্তুকে আকর্ষণ করে। এটিই ঘর্ষণজনিত স্থির বিদ্যুতের প্রথম পর্যবেক্ষণ।
অ্যাম্বারের গ্রিক নাম 'ইলেকট্রন' থেকে 'ইলেকট্রিসিটি' শব্দের উৎপত্তি; 1600 সালে গিলবার্ট 'ইলেকট্রিক' শব্দ প্রবর্তন করেন।
থেলিস চুম্বক পাথরের (লোডস্টোন) লোহা আকর্ষণের কথাও উল্লেখ করেন। -
৪৯১
কোনটি X-ray এর ধর্ম নয়?
- ক ভেদন ক্ষমতা অত্যাধিক
- খ অদৃশ্য
- গ সরলরেখায় গমন করে
- ঘ জীবন্ত কোষকে নষ্ট করে না
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) জীবন্ত কোষকে নষ্ট করে না
X-ray জীবন্ত কোষ নষ্ট করে, তাই 'জীবন্ত কোষকে নষ্ট করে না' কথাটি X-ray-এর ধর্ম নয়; এজন্যই ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় এবং অতিরিক্ত এক্সপোজার ক্ষতিকর।
X-ray-এর ধর্ম: তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ (তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় 0.01 থেকে 10 nm), অদৃশ্য, শূন্যস্থানে আলোর বেগে সরলরেখায় চলে, ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক (কাগজ, কাঠ, মাংস ভেদ করে; হাড় ও সীসা ভেদ করতে পারে না)।
আধানহীন বলে তড়িৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রে বিচ্যুত হয় না; গ্যাসকে আয়নিত করে, ফটোগ্রাফিক প্লেটে ক্রিয়া করে, প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে; প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন, সমবর্তন ঘটে।
উৎপত্তি: উচ্চ বিভবে ত্বরিত ইলেকট্রন টাংস্টেন লক্ষ্যে আঘাত করলে; ন্যূনতম তরঙ্গদৈর্ঘ্য λmin = hceV; আবিষ্কার রন্টজেন, 1895। -
৪৯২
কোনটি দোলকের ব্যবহার নয়?
- ক সময় নির্ণয়
- খ পাহাড়ের উচ্চতা নির্ণয়
- গ অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর মান নির্ণয়
- ঘ দৈর্ঘ্য নির্ণয়
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) দৈর্ঘ্য নির্ণয়
সাধারণ দৈর্ঘ্য নির্ণয় দোলকের ব্যবহার নয়; দৈর্ঘ্য মাপতে স্কেল, ভার্নিয়ার, স্ক্রু গজ ব্যবহৃত হয়।
সরল দোলকের ব্যবহার: (1) সময় নির্ণয় (দোলক ঘড়ি, সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল 2 s); (2) অভিকর্ষজ ত্বরণ নির্ণয়, g = 4π2LT2; (3) পাহাড়ের উচ্চতা ও খনির গভীরতা নির্ণয় (g-এর পরিবর্তন থেকে); (4) ভূগর্ভে খনিজ অনুসন্ধান।
দোলনকাল T = 2πLg, ববের ভর ও (ক্ষুদ্র) বিস্তারের উপর নির্ভর করে না; L বাড়লে T বাড়ে, g বাড়লে T কমে। -
৪৯৩
কোনটি শব্দের বেগের উপর প্রভাব রাখে না?
- ক তাপমাত্রা
- খ ঘনত্ব
- গ চাপ
- ঘ উচ্চতা
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) চাপ
গ্যাসে শব্দের বেগ v = γPρ = γRTM; তাপমাত্রা স্থির থাকলে চাপ বাড়ালে ঘনত্বও একই অনুপাতে বাড়ে (Pρ = ধ্রুবক), তাই চাপের কোনো প্রভাব নেই।
তাপমাত্রা: v ∝ T, প্রতি 1°C বৃদ্ধিতে বায়ুতে বেগ প্রায় 0.61 m s−1 বাড়ে; ঘনত্ব: v ∝ 1ρ (একই চাপে হালকা গ্যাসে বেগ বেশি, তাই হাইড্রোজেনে বেগ বায়ুর প্রায় 4 গুণ); আর্দ্রতা বাড়লে ঘনত্ব কমে, বেগ বাড়ে; বায়ুপ্রবাহের দিকে বেগ বাড়ে; উচ্চতায় তাপমাত্রা ও ঘনত্ব বদলায় বলে পরোক্ষভাবে প্রভাব পড়ে।
0°C-এ বায়ুতে শব্দের বেগ 332 m s−1; v = v01 + t273। -
৪৯৪
কোনটি দৃষ্টি ত্রুটি নয়?
- ক অ্যানিমিয়া
- খ ক্ষীণদৃষ্টি
- গ দূরদৃষ্টি
- ঘ চালশে
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) অ্যানিমিয়া
দৃষ্টির ত্রুটি: ক্ষীণদৃষ্টি বা মায়োপিয়া (দূরবিন্দু অসীমের চেয়ে কাছে সরে আসে, অক্ষিগোলক লম্বা, অবতল লেন্স), দূরদৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়া (নিকটবিন্দু 25 cm-এর চেয়ে দূরে সরে যায়, অক্ষিগোলক ছোট, উত্তল লেন্স), চালশে বা প্রেসবায়োপিয়া (বয়সে সিলিয়ারি পেশি দুর্বল হয়ে উপযোজন ক্ষমতা কমে, দ্বিফোকাস লেন্স), বিষমদৃষ্টি বা অ্যাস্টিগম্যাটিজম (সিলিন্ড্রিক্যাল লেন্স)।
অ্যানিমিয়া (রক্তশূন্যতা) রক্তের রোগ, চোখের ত্রুটি নয়।
সংশোধক লেন্সের ক্ষমতা P = 1f (ডায়াপ্টার, f মিটারে); মায়োপিয়ায় f = −(দূরবিন্দুর দূরত্ব)। -
৪৯৫
কোনটি বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্রের প্রধান অংশ নয়?
- ক প্রিজম টেবিল
- খ দূরবীক্ষণ
- গ কলিমেটর
- ঘ লেন্স
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) লেন্স
স্পেকট্রোমিটার বা বর্ণালীবীক্ষণ যন্ত্রের প্রধান অংশ তিনটি, কলিমেটর (সমন্বয়যোগ্য চিড় ও উত্তল লেন্সযুক্ত নল, সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ তৈরি করে), প্রিজম টেবিল (সমতলকরণ স্ক্রুযুক্ত বৃত্তাকার টেবিল, বৃত্তাকার স্কেলসহ ঘোরে), দূরবীক্ষণ (অভিলক্ষ্য, অভিনেত্র ও ক্রসওয়্যার, ভার্নিয়ার স্কেলসহ ঘুরে কোণ মাপে)।
লেন্স কলিমেটর ও দূরবীক্ষণের ভেতরের উপাংশ, যন্ত্রের পৃথক প্রধান অংশ নয়।
ব্যবহার: প্রিজমের প্রতিসরাঙ্ক n = sin(A + δm2)sin(A2) নির্ণয়, বর্ণালি বিশ্লেষণ, গ্রেটিং বসিয়ে তরঙ্গদৈর্ঘ্য নির্ণয়। -
৪৯৬
চৌম্বক বলরেখার ধর্ম কে উল্লেখ করেন?
- ক ফ্যারাডে
- খ আইনস্টাইন
- গ নিউটন
- ঘ ম্যাক্সওয়েল
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) ফ্যারাডে
মাইকেল ফ্যারাডে চৌম্বক বলরেখার ধারণা প্রবর্তন করেন ও এর ধর্ম উল্লেখ করেন; বলরেখার কোনো বিন্দুতে স্পর্শক ঐ বিন্দুতে ক্ষেত্রের দিক দেয়।
বলরেখার ধর্ম: চুম্বকের বাইরে N থেকে S মেরুতে, ভেতরে S থেকে N (বদ্ধ বক্ররেখা); দুটি বলরেখা পরস্পরকে ছেদ করে না; ঘনত্ব বেশি হলে ক্ষেত্র প্রবল; দৈর্ঘ্য বরাবর সংকুচিত হতে চায় ও পাশাপাশি বিকর্ষণ করে।
ফ্যারাডে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশও (1831) আবিষ্কার করেন; ম্যাক্সওয়েল পরে তড়িৎচুম্বকীয় তত্ত্বকে গাণিতিক রূপ দেন। -
৪৯৭
PV = K, এই সমীকরণটি সাধারণভাবে কোন সূত্রের প্রকাশ?
- ক বয়েলের সূত্র
- খ চার্লসের সূত্র
- গ চাপের সূত্র
- ঘ আদর্শ গ্যাস সমীকরণ
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) বয়েলের সূত্র
বয়েলের সূত্র: স্থির তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন চাপের ব্যস্তানুপাতিক, PV = ধ্রুবক, P1V1 = P2V2; P–V লেখচিত্র সমোষ্ণ রেখা (আয়তাকার পরাবৃত্ত), P–1V লেখচিত্র মূলবিন্দুগামী সরলরেখা।
চার্লসের সূত্র: স্থির চাপে V ∝ T; চাপের সূত্র: স্থির আয়তনে P ∝ T; সম্মিলিতভাবে PVT = ধ্রুবক, আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT।
R = 8.314 J mol−1 K−1; STP-তে 1 mol গ্যাসের আয়তন 22.4 L। -
৪৯৮
একটি ক্ষুদ্র গোলাকার বস্তু কোন তরলের মধ্যে দিয়ে প্রান্ত বেগে পড়ছে। বস্তুর ওজন 0.03 N এবং বস্তুর উপর ক্রিয়ারত প্লবতা 0.01 N হলে বস্তুর উপর ক্রিয়ারত সান্দ্র বল হবে-
- ক 0.01 N
- খ 0.02 N
- গ 0.03 N
- ঘ 0.04 N
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) 0.02 N
এখানে, W = 0.03 N, প্লবতা Fb = 0.01 N
প্রান্ত বেগে ত্বরণ শূন্য, তাই W = Fb + Fv
Fv = W − Fb = 0.03 − 0.01 = 0.02 N -
৪৯৯
পয়সনের অনুপাত σ হলে নিম্নের কোনটি সঠিক?
- ক σ = পার্শ্ব বিকৃতি/দৈর্ঘ্য বিকৃতি
- খ σ = দৈর্ঘ্য বিকৃতি/পার্শ্ব বিকৃতি
- গ σ = পার্শ্ব বিকৃতি × দৈর্ঘ্য বিকৃতি
- ঘ σ = পার্শ্ব বিকৃতি
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) σ = পার্শ্ব বিকৃতি/দৈর্ঘ্য বিকৃতি
পয়সনের অনুপাত σ = পার্শ্ব বিকৃতি/দৈর্ঘ্য বিকৃতি = ΔddΔLL, একটি বিশুদ্ধ সংখ্যা, একক ও মাত্রা নেই; স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে পদার্থের জন্য ধ্রুবক।
তাত্ত্বিক সীমা −1 থেকে 0.5; বাস্তবে সাধারণ পদার্থের জন্য 0 থেকে 0.5 (ইস্পাত ≈ 0.3, রাবার ≈ 0.5, কর্ক ≈ 0)।
দৈর্ঘ্য বাড়লে ব্যাস কমে, তাই কঠোরভাবে σ = −(পার্শ্ব বিকৃতি)/(দৈর্ঘ্য বিকৃতি); সম্পর্ক: Y = 2η(1 + σ) = 3K(1 − 2σ)। -
৫০০
সেকেন্ড দোলক বলতে বুঝায় -
- ক যে দোলকের দোলনকাল 1 সেকেন্ড
- খ যে দোলকের দোলনকাল 2 সেকেন্ড
- গ যে দোলকের দোলনকাল 3 সেকেন্ড
- ঘ যে দোলকের দোলনকাল 4 সেকেন্ড
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) যে দোলকের দোলনকাল 2 সেকেন্ড
যে সরল দোলকের দোলনকাল 2 s, অর্থাৎ এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে (অর্ধদোলন) 1 s লাগে, তাকে সেকেন্ড দোলক বলে।
T = 2πLg থেকে সেকেন্ড দোলকের কার্যকর দৈর্ঘ্য L = gT24π2 = gπ2 ≈ 0.993 m ≈ 1 m।
g বদলালে (উচ্চতা, অক্ষাংশ, চাঁদ) একই দৈর্ঘ্যের দোলকের T বদলায়; g কমলে T বাড়ে, ঘড়ি ধীরে চলে।
দোলনকাল ববের ভর বা (ক্ষুদ্র) বিস্তারের উপর নির্ভর করে না।
মেডিকেল ভর্তি ধাঁচে পরীক্ষা দাও
এই প্রতিষ্ঠানের প্রশ্ন দিয়েই এক্সাম বানাও — সময় ধরে, নেগেটিভ মার্কিংসহ।