পদার্থের গাঠনিক ধর্ম — বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও সমাধান
HSC পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্রের ৭ম অধ্যায়। এখানে ৬৮৮টি প্রশ্ন আছে — বোর্ড, ঢাবি, বুয়েট আর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা থেকে বাছাই করা, প্রতিটার নিচে পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া। উত্তর দেখার আগে নিজে একবার চেষ্টা করে নিও।
-
৫৪১
চিত্রে বিকৃতি বনাম পীড়ন লেখচিত্রের ΔOAB-এর ক্ষেত্রফল নির্দেশ করে—

- ক ইয়ং–এর গুণাঙ্ক
- খ সর্বমোট কৃত কাজ
- গ পয়সনের অনুপাত
- ঘ একক আয়তনে বিভবশক্তি
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) একক আয়তনে বিভবশক্তি
পীড়ন বনাম বিকৃতি লেখচিত্রে ΔOAB-এর ক্ষেত্রফল = 12 × AB × OB = 12 × পীড়ন × বিকৃতি।
এর একক Nm−2 × (মাত্রাহীন) = Jm−3, অর্থাৎ এটি বস্তুর একক আয়তনে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি (বিভবশক্তি)।
বল বনাম দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি লেখচিত্রের নিচের ক্ষেত্রফল হলে তা হতো সর্বমোট কৃত কাজ W = (12)Fl।
OA রেখার ঢাল = পীড়ন/বিকৃতি = ইয়ং-এর গুণাঙ্ক। -
৫৪২
হুকের সূত্র নিম্নরূপ : (স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে)
- ক পীড়ন = 1/বিকৃতি
- খ পীড়ন ∝ বিকৃতি
- গ পীড়ন ∝ (বিকৃতি)2
- ঘ পীড়ন ∝ 1/(বিকৃতি)2
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) পীড়ন ∝ বিকৃতি
হুকের সূত্র: স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে পীড়ন বিকৃতির সমানুপাতিক, অর্থাৎ পীড়ন ∝ বিকৃতি বা পীড়ন = ধ্রুবক × বিকৃতি।
এই ধ্রুবকই স্থিতিস্থাপক গুণাঙ্ক: দৈর্ঘ্যের ক্ষেত্রে Y, আয়তনের ক্ষেত্রে K, আকারের ক্ষেত্রে n।
স্প্রিং-এর ক্ষেত্রে একই সূত্র F = −kx রূপে লেখা হয়। -
৫৪৩
বৃষ্টির ফোঁটা বাতাসের মধ্য দিয়ে পড়তে থাকলে দূরত্ব বনাম বেগ লেখচিত্রের প্রকৃতি কোনটি?
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ)
পড়ন্ত বৃষ্টির ফোঁটার বেগ শুরুতে দ্রুত বাড়ে, বেগ বাড়ার সাথে সান্দ্র বল F = 6πηrv বাড়তে থাকে।
একসময় সান্দ্র বল + প্লবতা = ওজন হলে ত্বরণ শূন্য হয় এবং ফোঁটা প্রান্তবেগে সমবেগে চলে, তাই লেখচিত্র শেষে প্রায় অনুভূমিক হয়।
সুতরাং বেগ বনাম দূরত্ব লেখচিত্র প্রথমে ঊর্ধ্বমুখী, পরে প্রায় অনুভূমিক হয়ে প্রান্তবেগের মানে স্থির থাকে।
বাধাহীন পতনে (সান্দ্র বল না থাকলে) বেগ অবিরাম বাড়ত, v = 2gs; বাতাসের সান্দ্রতার কারণে বৃষ্টির ফোঁটা একটি সসীম প্রান্তবেগে পৌঁছায়। -
৫৪৪
প্রান্তবেগ সান্দ্রতা গুণাঙ্কের—
- ক সমানুপাতিক
- খ ব্যস্তানুপাতিক
- গ বর্গমূলের সমানুপাতিক
- ঘ বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ব্যস্তানুপাতিক
প্রান্তবেগ v = 2r2(ρ − σ)g9η, তাই v ∝ 1η, অর্থাৎ প্রান্তবেগ সান্দ্রতা গুণাঙ্কের ব্যস্তানুপাতিক।
একই সূত্রে v ∝ r2 (ব্যাসার্ধের বর্গের সমানুপাতিক) এবং v ∝ (ρ − σ)।
সান্দ্রতা বেশি হলে (যেমন গ্লিসারিন) বস্তু কম প্রান্তবেগে পড়ে। -
৫৪৫
নিচের কোন সম্পর্কটি স্টোকস-এর সূত্র?
- ক F ∝ ηπrv
- খ F ∝ rπv
- গ F ∝ ηrv
- ঘ F ∝ πηv
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) F ∝ ηrv
স্টোকসের সূত্র: সান্দ্র মাধ্যমে r ব্যাসার্ধের গোলক v বেগে চললে সান্দ্র বল F = 6πηrv, অর্থাৎ F ∝ ηrv।
এখানে 6π সংখ্যাগত ধ্রুবক; তাই সান্দ্র বল সান্দ্রতাঙ্ক η, ব্যাসার্ধ r ও বেগ v-এর প্রত্যেকটির সমানুপাতিক।
সূত্রটি ছোট গোলক ও কম বেগে (স্তরীয় প্রবাহে) প্রযোজ্য; এ থেকেই প্রান্তবেগ v = 2r2(ρ − σ)g9η পাওয়া যায়। -
৫৪৬
কোনটির ক্ষেত্রে ভ্যান ডার ওয়াল বল বিদ্যমান?
- ক অক্সিজেন অণুর বন্ধন
- খ সোডিয়াম ও ক্লোরিন পরমাণুর বন্ধন
- গ সিলিকন পরমাণুর বন্ধন
- ঘ তামার পরমাণু বন্ধন
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) অক্সিজেন অণুর বন্ধন
ভ্যান ডার ওয়ালস বল হলো নিরপেক্ষ অণুগুলোর মধ্যকার দুর্বল আকর্ষণ বল; অক্সিজেন (O2) অণুগুলো পরস্পরের সাথে এই বলেই যুক্ত থাকে (তরল বা কঠিন অক্সিজেনে)।
একটি O2 অণুর ভেতরে দুটি O পরমাণু সমযোজী বন্ধনে যুক্ত, কিন্তু অণু-অণুর মধ্যকার বন্ধন ভ্যান ডার ওয়ালস বন্ধন; নিষ্ক্রিয় গ্যাস, H2, N2 অণুর ক্ষেত্রেও একই।
সোডিয়াম ও ক্লোরিনের (NaCl) বন্ধন আয়নিক বন্ধন — ইলেকট্রন আদান-প্রদানে গঠিত ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের আকর্ষণ।
সিলিকন (এবং হীরা, জার্মেনিয়াম) পরমাণুর বন্ধন সমযোজী বন্ধন — ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে।
তামার পরমাণুর বন্ধন ধাতব বন্ধন — ধনাত্মক আয়ন ও মুক্ত ইলেকট্রন মেঘের আকর্ষণ। -
৫৪৭
প্রভাব গোলকের ব্যাসার্ধ কোনটি?
- ক 10−15 m
- খ 10−10 m
- গ 10−9 m
- ঘ 10−8 m
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) 10−9 m
প্রভাব গোলকের ব্যাসার্ধ অর্থাৎ আণবিক পাল্লা প্রায় 10−9 m।
কোনো অণুকে কেন্দ্র করে আণবিক পাল্লার সমান ব্যাসার্ধে কল্পিত গোলককে প্রভাব গোলক বলে; এর বাইরে থাকা অণুর ওপর ঐ অণুর আকর্ষণ বল নগণ্য।
তরলের পৃষ্ঠটান ব্যাখ্যায় এই ধারণা ব্যবহৃত হয় — পৃষ্ঠ থেকে আণবিক পাল্লার সমান পুরুত্বের স্তরকে পৃষ্ঠ স্তর বলে।
10−10 m হলো পরমাণুর আকারের ক্রম (1 Å), আর 10−15 m নিউক্লিয়াসের আকারের ক্রম (1 fm)। -
৫৪৮
যেসব তরল কাচকে ভেজায় না তাদের স্পর্শ কোণ—
- ক প্রায় শূন্য
- খ প্রায় 90°
- গ 90°-এর চেয়ে ছোট
- ঘ 90°-এর চেয়ে বড়
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) 90°-এর চেয়ে বড়
যেসব তরল কাচকে ভেজায় না (যেমন পারদ) তাদের স্পর্শ কোণ 90°-এর চেয়ে বড় অর্থাৎ স্থূলকোণ; পারদ-কাচের স্পর্শ কোণ প্রায় 140°।
এসব তরলে সংসক্তি বল আসঞ্জন বলের চেয়ে বেশি, তরল পৃষ্ঠ উত্তল হয় এবং কৈশিক নলে তরল নেমে যায়।
যেসব তরল কাচকে ভেজায় (যেমন পানি, গ্লিসারিন) তাদের স্পর্শ কোণ 90°-এর চেয়ে ছোট; বিশুদ্ধ পানি ও পরিষ্কার কাচের স্পর্শ কোণ প্রায় 0°।
স্পর্শ কোণ ঠিক 90° হলে (যেমন রুপা ও পানি) তরল পৃষ্ঠ সমতল থাকে, কৈশিক নলে তরল ওঠেও না নামেও না। -
৫৪৯
পানির পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়—
i. তাপমাত্রা হ্রাস পেলে
ii. তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে
iii. সাবানের ফেনা মেশালে
নিচের কোনটি সঠিক?- ক i ও ii
- খ i ও iii
- গ ii ও iii
- ঘ i, ii ও iii
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) ii ও iii
পানির পৃষ্ঠটান তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে এবং সাবান বা ডিটারজেন্ট মেশালে হ্রাস পায় — তাই ii ও iii সঠিক।
i. ভুল — তাপমাত্রা হ্রাস পেলে আণবিক সংসক্তি বাড়ে, ফলে পৃষ্ঠটান বৃদ্ধি পায়।
ii. সঠিক — তাপমাত্রা বাড়লে অণুর গতিশক্তি বাড়ে ও সংসক্তি কমে, তাই পৃষ্ঠটান কমে; সংকট তাপমাত্রায় পৃষ্ঠটান শূন্য হয়।
iii. সঠিক — সাবান ও ডিটারজেন্ট পৃষ্ঠ-সক্রিয় পদার্থ, এরা পানির পৃষ্ঠটান কমিয়ে দেয়; এজন্য সাবান পানি দিয়ে ময়লা সহজে পরিষ্কার হয়। -
৫৫০
যখন পানিতে কিছু ডিটারজেন্ট মেশানো হয় তখন এর পৃষ্ঠটান—
- ক বৃদ্ধি পায়
- খ হ্রাস পায়
- গ অপরিবর্তিত থাকে
- ঘ শূন্য হয়
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) হ্রাস পায়
পানিতে ডিটারজেন্ট মেশালে এর পৃষ্ঠটান হ্রাস পায়।
ডিটারজেন্ট অণু পৃষ্ঠে জমা হয়ে পানির অণুগুলোর মধ্যকার সংসক্তি বল কমিয়ে দেয়, ফলে পানি কাপড়ের সূক্ষ্ম ছিদ্রে সহজে প্রবেশ করে ময়লা তুলে আনে।
দ্রবণীয় অজৈব লবণ (যেমন NaCl) মেশালে পানির পৃষ্ঠটান সামান্য বৃদ্ধি পায়।
তাপমাত্রা বৃদ্ধিতেও পৃষ্ঠটান কমে; তেল, অ্যালকোহল ইত্যাদি মেশালেও পানির পৃষ্ঠটান কমে। -
৫৫১
একটি কৈশিক নলকে গ্লিসারিনে ডুবালে—
i. কাচ ও গ্লিসারিনের স্পর্শ কোণ সূক্ষ্ম কোণ হয়
ii. তরল পৃষ্ঠ অবতল আকার ধারণ করে
iii. কাচ ও গ্লিসারিনের স্পর্শ কোণ স্থূল কোণ হয়
নিচের কোনটি সঠিক?- ক i ও ii
- খ i ও iii
- গ ii ও iii
- ঘ i, ii ও iii
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) i ও ii
গ্লিসারিন কাচকে ভেজায়, তাই স্পর্শ কোণ সূক্ষ্মকোণ এবং তরল পৃষ্ঠ অবতল — i ও ii সঠিক।
i. সঠিক — গ্লিসারিন-কাচের আসঞ্জন বল গ্লিসারিনের সংসক্তি বলের চেয়ে বেশি, তাই স্পর্শ কোণ 90°-এর চেয়ে ছোট।
ii. সঠিক — সূক্ষ্ম স্পর্শ কোণের তরলের পৃষ্ঠ কৈশিক নলে অবতল হয় এবং তরল নলে ওপরে ওঠে।
iii. ভুল — স্থূল স্পর্শ কোণ হয় পারদের মতো যেসব তরল কাচকে ভেজায় না তাদের ক্ষেত্রে; তখন পৃষ্ঠ উত্তল হয় ও তরল নেমে যায়। -
৫৫২
পৃষ্ঠটানের একক—
- ক নিউটন/মিটার
- খ নিউটন/মিটার2
- গ নিউটন−মিটার
- ঘ নিউটন
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) নিউটন/মিটার
পৃষ্ঠটানের একক নিউটন/মিটার (N m−1)।
পৃষ্ঠটান T = Fl, অর্থাৎ তরল পৃষ্ঠে কল্পিত একক দৈর্ঘ্যের রেখার এক পাশে লম্বভাবে ক্রিয়াশীল বল।
একে পৃষ্ঠশক্তি হিসেবেও লেখা যায়: T = WΔA, একক J m−2 যা N m−1-এর সমান।
মাত্রা MT−2; CGS একক dyne cm−1 (1 N m−1 = 1000 dyne cm−1)। নিউটন/মিটার2 চাপ বা পীড়নের একক, নিউটন-মিটার কাজ বা টর্কের একক। -
৫৫৩
স্পর্শ কোণ 120° হলে কৈশিক নলে তরল—
i. ওপরে উঠবে
ii. নিচে নামবে
iii. অপরিবর্তিত থাকবে
নিচের কোনটি সঠিক?- ক i
- খ ii
- গ i ও iii
- ঘ ii ও iii
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ii
স্পর্শ কোণ 120° অর্থাৎ স্থূলকোণ হলে কৈশিক নলে তরল নিচে নামবে — শুধু ii সঠিক।
আমরা জানি, h = 2T cosθrρg
∴ θ = 120° হলে cos120° = −0.5 ঋণাত্মক, ফলে h ঋণাত্মক; অর্থাৎ তরল বাইরের তলের চেয়ে নিচে নামে (যেমন কাচ নলে পারদ)।
i. ভুল — তরল ওপরে ওঠে কেবল θ < 90° হলে। iii. ভুল — তরল অপরিবর্তিত থাকে কেবল θ = 90° হলে (cos90° = 0)। -
৫৫৪
1 m দীর্ঘ ও 1 mm ব্যাসের একটি তারের দৈর্ঘ্য 0.05 cm বৃদ্ধি করা হলে তারটির ব্যাস হ্রাস পাবে— (σ = 0.25)
- ক 1.25 × 10−7 cm
- খ 12.5 × 10−7 m
- গ 1.25 × 10−7 mm
- ঘ 1.25 × 10−7 m
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) 1.25 × 10−7 m
এখানে, L = 1 m, ΔL = 0.05 cm = 5 × 10−4 m, D = 1 mm = 10−3 m, σ = 0.25
আমরা জানি, σ = ΔDDΔLL ⇒ ΔD = σDΔLL
∴ ΔD = 0.25 × 10−3 × 5 × 10−41 = 1.25 × 10−7 m
পয়সনের অনুপাতে ব্যাস বা ব্যাসার্ধ যেকোনোটির আপেক্ষিক পরিবর্তন নেওয়া যায়, কারণ ΔDD = Δrr। উত্তরটি 1.25 × 10−5 cm বা 1.25 × 10−4 mm-এর সমান। -
৫৫৫
কোনো তারের অসহ পীড়ন নির্ভর করে তারের—
- ক ব্যাসার্ধের ওপর
- খ দৈর্ঘ্যের ওপর
- গ প্রস্থচ্ছেদের আকৃতির ওপর
- ঘ উপাদানের ওপর
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) উপাদানের ওপর
কোনো তারের অসহ পীড়ন শুধু তারের উপাদানের ওপর নির্ভর করে।
অসহ পীড়ন = অসহ ভার/প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল; একই উপাদানের মোটা তারের অসহ ভার বেশি, কিন্তু অসহ পীড়ন একই থাকে।
অসহ ভার প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের (অর্থাৎ ব্যাসার্ধের বর্গের) সমানুপাতিক, কিন্তু তারের দৈর্ঘ্য বা প্রস্থচ্ছেদের আকৃতির ওপর অসহ পীড়ন নির্ভর করে না।
ইয়ং-এর গুণাঙ্কও তেমনি শুধু উপাদানের ওপর নির্ভরশীল; তারের দৈর্ঘ্য বা ব্যাসার্ধ বদলালে এর মান বদলায় না। -
৫৫৬
ছোটো ছোটো তরল বিন্দু গোলাকার ধারণ করার কারণ হলো—
- ক মহাকর্ষীয় বল
- খ আসঞ্জন বল
- গ সকল দিক থেকে সমান চাপ
- ঘ পৃষ্ঠটান বল
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) পৃষ্ঠটান বল
ছোটো ছোটো তরল বিন্দু পৃষ্ঠটানের কারণে গোলাকার হয়।
পৃষ্ঠটানের কারণে তরল পৃষ্ঠ সংকুচিত হয়ে সর্বনিম্ন ক্ষেত্রফল লাভ করতে চায়; নির্দিষ্ট আয়তনের জন্য গোলকের পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল সবচেয়ে কম।
ছোটো বিন্দুতে ওজনের প্রভাব পৃষ্ঠটানের তুলনায় নগণ্য, তাই এগুলো প্রায় পুরো গোলাকার হয়; বড় ফোঁটায় অভিকর্ষের প্রভাবে আকৃতি কিছুটা চ্যাপ্টা হয়।
একই কারণে বৃষ্টির ফোঁটা, পারদের ছোট বিন্দু ও সাবানের বুদবুদ গোলাকার হয়। -
৫৫৭
সান্দ্র মাধ্যমের মধ্য দিয়ে পতনশীল r ব্যাসার্ধের একটি বস্তুর প্রান্তীয় বেগ v হলে—
- ক v ∝ r
- খ v ∝ r−2
- গ v ∝ r−1
- ঘ v ∝ r2
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) v ∝ r2
প্রান্তীয় বেগ ব্যাসার্ধের বর্গের সমানুপাতিক: v ∝ r2।
আমরা জানি, প্রান্তবেগে ওজন = প্লবতা + সান্দ্র বল ⇒ (43)πr3ρg = (43)πr3σg + 6πηrv
∴ v = 2r2(ρ − σ)g9η, যেখানে ρ, σ, η, g ধ্রুবক হলে v ∝ r2
তাই ব্যাসার্ধ দ্বিগুণ হলে প্রান্তবেগ চারগুণ হয়; এজন্য বড় বৃষ্টির ফোঁটা ছোট ফোঁটার চেয়ে দ্রুত পড়ে। -
৫৫৮
একটি তারের দৈর্ঘ্য বিকৃতি 0.02 এবং পার্শ্ব বিকৃতি 0.002 হলে এর পয়সনের অনুপাত কত ?
- ক 0.004
- খ 0.1
- গ 10
- ঘ 0.0004
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) 0.1
এখানে, দৈর্ঘ্য বিকৃতি = 0.02, পার্শ্ব বিকৃতি = 0.002
আমরা জানি, σ = (পার্শ্ব বিকৃতি)/(দৈর্ঘ্য বিকৃতি)
∴ σ = 0.0020.02 = 0.1
পয়সনের অনুপাত একক ও মাত্রাবিহীন; তাত্ত্বিকভাবে এর মান −1 থেকে 0.5-এর মধ্যে, বাস্তবে সাধারণত 0.2 থেকে 0.4। -
৫৫৯
স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে কোনটি সবসময় ধ্রুবক থাকে ?
i. পীড়ন/বিকৃতি
ii. (পার্শ্ব বিকৃতি)/(দৈর্ঘ্য বিকৃতি)
iii. বলক্ষেত্রফল
নিচের কোনটি সঠিক?- ক i ও ii
- খ i ও iii
- গ ii ও iii
- ঘ i, ii ও iii
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) i ও ii
স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে পীড়ন/বিকৃতি ও পয়সনের অনুপাত ধ্রুবক — i ও ii সঠিক।
i. সঠিক — হুকের সূত্র অনুযায়ী স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে পীড়ন/বিকৃতি = ধ্রুবক, যা স্থিতিস্থাপক গুণাঙ্ক (Y, K বা n)।
ii. সঠিক — (পার্শ্ব বিকৃতি)/(দৈর্ঘ্য বিকৃতি) হলো পয়সনের অনুপাত σ, যা নির্দিষ্ট উপাদানের জন্য স্থিতিস্থাপক সীমায় ধ্রুবক।
iii. ভুল — বলক্ষেত্রফল হলো পীড়ন, যা প্রযুক্ত বলের সাথে বাড়ে বা কমে; তাই এটি ধ্রুবক নয়। -
৫৬০
2 × 10−4 m ব্যাসার্ধের একটি লোহার বল কোনো তরলের ভিতর দিয়ে কিছুক্ষণ পড়ার পর 4 × 10−2 ms−1 ধ্রুববেগ নিয়ে পড়তে থাকে। লোহা ও তরলের ঘনত্ব যথাক্রমে 7.8 × 103 kgm−3 এবং 103 kgm−3।
তরলের সান্দ্রতাঙ্ক হবে—- ক 1.5 × 10−2 Nsm−2
- খ 1.5 × 10−2 Ns−1m−2
- গ 6.7 × 10−2 Nsm−2
- ঘ 6.7 × 10−2 Ns−1m−2
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) 1.5 × 10−2 Nsm−2
এখানে, r = 2 × 10−4 m, v = 4 × 10−2 ms−1, ρ = 7.8 × 103 kgm−3, σ = 103 kgm−3, g = 9.8 ms−2
আমরা জানি, v = 2r2(ρ − σ)g9η ⇒ η = 2r2(ρ − σ)g9v
∴ η = 2 × (2 × 10−4)2 × (7800 − 1000) × 9.89 × 4 × 10−2 = 1.48 × 10−2 ≈ 1.5 × 10−2 Nsm−2
সান্দ্রতাঙ্কের একক N s m−2 (= Pa s); Ns−1m−2 এককটি মাত্রাগতভাবে ভুল।
পদার্থের গাঠনিক ধর্ম নিয়ে পরীক্ষা দাও
শুধু এই অধ্যায়ের প্রশ্ন দিয়ে একটা এক্সাম বানাও — সময় ধরে, নেগেটিভ মার্কিংসহ।