ভৌত আলোকবিজ্ঞান — বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও সমাধান
HSC পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্রের ৭ম অধ্যায়। এখানে ৭৩০টি প্রশ্ন আছে — বোর্ড, ঢাবি, বুয়েট আর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা থেকে বাছাই করা, প্রতিটার নিচে পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া। উত্তর দেখার আগে নিজে একবার চেষ্টা করে নিও।
-
৪৪১
নিচের কোন তত্ত্ব দ্বারা চিড়ের মধ্য দিয়ে আলো বাঁকে যাওয়ার ঘটনা ব্যাখ্যা করা যায়?
- ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব
- খ তরঙ্গ তত্ত্ব
- গ দ্বৈতনীতি
- ঘ কণা তত্ত্ব
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) তরঙ্গ তত্ত্ব
সরু চিড়ের মধ্য দিয়ে আলো বেঁকে জ্যামিতিক ছায়ার ভেতরে ঢুকে পড়ার ঘটনা অপবর্তন, আর এটি
ব্যাখ্যা করে আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব (হাইগেনসের নীতি, তরঙ্গমুখের প্রতিটি বিন্দু নতুন গৌণ তরঙ্গের উৎস)।
ব্যতিচার, অপবর্তন ও সমবর্তন, এই তিনটিই তরঙ্গধর্মের প্রমাণ।
একক চিড়ের অপবর্তনে অন্ধকার পট্টির শর্ত a sinθ = nλ; চিড়ের প্রস্থ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কাছাকাছি হলে
অপবর্তন স্পষ্ট হয়।
কণা তত্ত্ব ও কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যাখ্যা করে আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া, কম্পটন ক্রিয়া প্রভৃতি। -
৪৪২
নিচের কোন তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণের কম্পাঙ্ক সবচেয়ে কম?
- ক অবলোহিত
- খ গামা
- গ অতিবেগুনী
- ঘ এক্স-রে
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) অবলোহিত
তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালিতে কম্পাঙ্ক বাড়ার ক্রম, বেতার < মাইক্রোওয়েভ < অবলোহিত <
দৃশ্যমান < অতিবেগুনি < এক্স-রে < গামা; তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম ঠিক উল্টো।
প্রদত্ত চারটির মধ্যে অবলোহিতের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড় (প্রায় 700 nm − 1 mm), তাই কম্পাঙ্ক সবচেয়ে কম।
c = fλ, ফোটন শক্তি E = hf, কম্পাঙ্ক কম হলে শক্তিও কম, তাই অবলোহিত তাপীয় বিকিরণ হিসেবে অনুভূত হয়। -
৪৪৩
আলোর অপবর্তন কোন কারণে ঘটে?
- ক সমবর্তন
- খ প্রতিফলন
- গ ব্যতিচার
- ঘ প্রতিসরণ
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) ব্যতিচার
অপবর্তন হলো বাধা বা সরু ছিদ্রের প্রান্ত ঘেঁষে আলোর বেঁকে জ্যামিতিক ছায়ার ভেতরে প্রবেশ করা।
হাইগেনসের নীতি অনুসারে ছিদ্রের প্রতিটি বিন্দু গৌণ তরঙ্গের উৎস; এই অসংখ্য গৌণ তরঙ্গের ব্যতিচারেই উজ্জ্বল ও অন্ধকার অপবর্তন পট্টি সৃষ্টি হয়, তাই অপবর্তনের কারণ ব্যতিচার।
শর্ত: বাধা বা ছিদ্রের আকার আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তুলনীয় হতে হয়; একক চিড়ের অপবর্তনে অন্ধকার পট্টির শর্ত a sinθ = nλ -
৪৪৪
কোন রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম?
- ক নীল
- খ লাল
- গ হলুদ
- ঘ বেগুনি
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) বেগুনি
দৃশ্যমান আলোর বর্ণালিতে বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম (প্রায় 400 nm) এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি (প্রায় 700 nm)।
ক্রম: বেগুনি < নীল < আসমানি < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল
c = fλ, তাই তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম মানে কম্পাঙ্ক ও ফোটন শক্তি E = hcλ বেশি, বেগুনি আলোর শক্তি সর্বাধিক।
প্রিজমে বিচ্ছুরণে বেগুনি আলো সবচেয়ে বেশি এবং লাল আলো সবচেয়ে কম বিচ্যুত হয়। -
৪৪৫
মাইক্রোওয়েভ কোথায় ব্যবহার হয়?
- ক টেলিফোনে
- খ টেলিভিশনে
- গ রেডিওতে
- ঘ রাডারে
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) রাডারে
মাইক্রোওয়েভের কম্পাঙ্ক ≈ 109–1012 Hz, তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় 1 mm থেকে 30 cm, এই ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের জন্য
এটি সরলরেখায় চলে ও ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়, তাই রাডারে বস্তুর দূরত্ব ও বেগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
এছাড়া মাইক্রোওয়েভ ওভেন, উপগ্রহ যোগাযোগ ও মোবাইল সংকেতে ব্যবহার হয়।
রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারে ব্যবহৃত হয় অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ বেতার তরঙ্গ। -
৪৪৬
অন্ধকারে ছবি তোলার জন্য ক্যামেরায় কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
- ক গামা রশ্মি
- খ ইনফ্রারেড রশ্মি
- গ আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি
- ঘ এক্স-রে
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ইনফ্রারেড রশ্মি
ইনফ্রারেড বা অবলোহিত রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান আলোর চেয়ে বেশি (প্রায় 700 nm থেকে 1 mm)।
উত্তপ্ত যেকোনো বস্তু ইনফ্রারেড বিকিরণ করে, তাই অন্ধকারেও বস্তুর তাপীয় প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়, নাইট ভিশন ক্যামেরা, থার্মাল ইমেজিং, রিমোট কন্ট্রোল, ফিজিওথেরাপিতে এর ব্যবহার।
আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম (10−400 nm), এতে জীবাণুনাশ ও প্রতিপ্রভা সৃষ্টি হয়।
এক্স-রে ও গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিকিরণ, যথাক্রমে অভ্যন্তরীণ ইলেকট্রন স্তর ও নিউক্লিয়াস থেকে উৎপন্ন। -
৪৪৭
নিচের কোনটি অবলোহিত রশ্মির (Infrared rays) এর ব্যবহার নয়?
- ক ফিজিওথেরাপি
- খ ইলেকট্রিক্যাল হিটার
- গ স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন
- ঘ নাইট ভিশন ক্যামেরা
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন
স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনে ব্যবহৃত হয় মাইক্রোওয়েভ ও বেতার তরঙ্গ, অবলোহিত রশ্মি নয়।
অবলোহিত রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় 7×10−7 m থেকে 10−3 m, দৃশ্যমান আলোর লাল প্রান্তের পরে;
আবিষ্কারক উইলিয়াম হার্শেল। এর তাপীয় ক্রিয়া প্রবল।
ব্যবহার: ফিজিওথেরাপি ও তাপচিকিৎসা, ইলেকট্রিক হিটার, নাইট ভিশন ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা,
টিভির রিমোট কন্ট্রোল, কুয়াশার মধ্যে ছবি তোলা।
তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালিতে ক্রম: বেতার < মাইক্রোওয়েভ < অবলোহিত < দৃশ্যমান < অতিবেগুনি < X-রশ্মি < γ-রশ্মি। -
৪৪৮
তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালীতে (electromagnetic spectrum) নিচের কোনটির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?
- ক UV-ray
- খ X-ray
- গ TV-waves
- ঘ Infrared ray
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) TV-waves
তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালিতে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বাড়ার ক্রম: গামা রশ্মি < এক্স-রে < অতিবেগুনি < দৃশ্যমান আলো < অবলোহিত < মাইক্রোওয়েভ < টিভি ও বেতার তরঙ্গ।
এখানে TV তরঙ্গ বেতার শ্রেণির, তরঙ্গদৈর্ঘ্য মিটার পর্যায়ের, সবচেয়ে বেশি।
সব তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ শূন্যস্থানে একই বেগে চলে, c = 3 × 108 m s−1, এবং c = fλ, তাই তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে কম্পাঙ্ক ও ফোটন শক্তি কম। -
৪৪৯
নিচের কোন আলোক রশ্মিটির তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?
- ক X-ray
- খ Gamma ray
- গ Visible ray
- ঘ Microwave
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) Microwave
তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালিতে তরঙ্গদৈর্ঘ্য ক্রমে (বেশি → কম): রেডিও তরঙ্গ > মাইক্রোওয়েভ > অবলোহিত > দৃশ্যমান আলো > অতিবেগুনি > X-ray > গামা রশ্মি।
কম্পাঙ্ক ও ফোটন শক্তি (E = hf = hcλ) ঠিক উল্টো ক্রমে, গামা রশ্মির শক্তি সবচেয়ে বেশি, তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম।
মাইক্রোওয়েভ: λ ≈ 1 mm – 30 cm; দৃশ্যমান: 400–700 nm; X-ray: 0.01–10 nm; গামা: < 0.01 nm। শূন্যে সবগুলোর বেগ c = 3 × 108 m s−1। -
৪৫০
আলোক শক্তির তুলনায় তাপ শক্তি বেশি কোন রশ্মিতে?
- ক এক্স-রে
- খ অতিবেগুনী
- গ দৃশ্যমান বর্ণালি
- ঘ অবলোহিত
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) অবলোহিত
অবলোহিত রশ্মি (λ ≈ 700 nm – 1 mm) তাপীয় বিকিরণ, গরম বস্তু থেকে নির্গত হয়, শোষিত হলে বস্তু গরম হয়, তাই একে তাপ রশ্মি বলে; আবিষ্কার হার্শেল (1800)। ব্যবহার: রাতের ছবি, রিমোট কন্ট্রোল, ফিজিওথেরাপি।
তড়িৎচুম্বকীয় বর্ণালি (কম্পাঙ্ক বাড়ার ক্রমে): রেডিও → মাইক্রোওয়েভ → অবলোহিত → দৃশ্যমান (400–700 nm) → অতিবেগুনি → এক্স-রে → গামা।
কম্পাঙ্ক বাড়লে ফোটন শক্তি E = hf বাড়ে, অতিবেগুনি ও এক্স-রের শক্তি বেশি, তাপীয় প্রভাব নয় বরং আয়নীকরণ ক্ষমতা বেশি। -
৪৫১
কোনটির পোলারায়ন ঘটে না?
- ক আলোর
- খ পানির
- গ শব্দের
- ঘ কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) শব্দের
পোলারায়ন (সমবর্তন) হলো তরঙ্গের কম্পনকে একটি নির্দিষ্ট তলে সীমাবদ্ধ করা, এটি কেবল অনুপ্রস্থ তরঙ্গের ধর্ম, কারণ অনুপ্রস্থ তরঙ্গে কম্পন সঞ্চালনের দিকের লম্ব বিভিন্ন তলে হতে পারে।
শব্দ তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য, কণার কম্পন সঞ্চালনের দিকেই হয়, বাছাই করার মতো আলাদা কম্পনতল নেই; তাই শব্দের পোলারায়ন হয় না।
আলো অনুপ্রস্থ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, পোলারয়েড, প্রতিফলন (ব্রুস্টার সূত্র tan ip = μ), দ্বি-প্রতিসরণ দিয়ে সমবর্তিত করা যায়; পানির উপরিতলের তরঙ্গও অনুপ্রস্থ প্রকৃতির।
আলোর পোলারায়নই প্রমাণ করে আলো অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। -
৪৫২
"আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব" প্রদান করেন কোন বিজ্ঞানী?
- ক ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস
- খ আলবার্ট আইনস্টাইন
- গ মাইকেল ফ্যারাডে
- ঘ টমাস ইয়ং
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস
1678 সালে ডাচ বিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান হাইগেনস আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব প্রদান করেন, আলো ইথার মাধ্যমে তরঙ্গরূপে চলে; হাইগেনসের নীতি দিয়ে প্রতিফলন-প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করা যায়।
নিউটন কণা তত্ত্ব (1675), টমাস ইয়ং ব্যতিচার পরীক্ষা (1801) দিয়ে তরঙ্গ তত্ত্ব প্রমাণ করেন, ফ্রেনেল অপবর্তন ব্যাখ্যা করেন।
ম্যাক্সওয়েল তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ তত্ত্ব (1864), প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব (1900), আইনস্টাইন ফোটন তত্ত্ব দিয়ে ফটোতড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা (1905)।
আলোর সমবর্তন প্রমাণ করে আলো অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। -
৪৫৩
ইয়ং এর দ্বি-চিড় পরীক্ষায় চিড়গুলোর দূরত্ব অর্ধেক এবং চিড় ও পর্দার দূরত্ব দ্বিগুণ করা হলে ডোরা প্রস্থ কত হবে?
- ক 2 গুণ
- খ 12 গুণ
- গ 4 গুণ
- ঘ কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) 4 গুণ
এখানে, d′ = d2, D′ = 2D
ডোরা প্রস্থ β = λDd
β′ = λ(2D)d2 = 4λDd = 4β, অর্থাৎ 4 গুণ।
শর্টকাট: β ∝ Dd, তাই β′β = 2 ÷ (12) = 4। -
৪৫৪
সমতল নিঃসরণ গ্রেটিং সম্পর্কে সত্য নয় নিচের কোনটি?
- ক প্রতি cm এ প্রায় 5000 হতে 6000 পর্যন্ত দাগ থাকে
- খ প্রতিটি দাগ অস্বচ্ছ রেখার মত কাজ করে
- গ প্রতিলিপি গ্রেটিং এক ধরনের নিঃসরণ গ্রেটিং
- ঘ গ্রেটিং ধ্রুবক = 1a + b [a = চিড়ের প্রস্থ, b = রেখার প্রস্থ]
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) গ্রেটিং ধ্রুবক = 1a + b [a = চিড়ের প্রস্থ, b = রেখার প্রস্থ]
সমতল নিঃসরণ গ্রেটিং: স্বচ্ছ কাচ বা পলিশ করা ধাতব পাতে হীরার সূচ দিয়ে প্রতি cm-এ প্রায় 5000 হতে 6000 সমান্তরাল সমদূরবর্তী দাগ কাটা হয়; দাগগুলো অস্বচ্ছ রেখা ও দাগের মধ্যবর্তী অংশ চিড়ের মতো কাজ করে।
চিড়ের প্রস্থ a ও অস্বচ্ছ রেখার প্রস্থ b হলে গ্রেটিং ধ্রুবক d = a + b, প্রতি একক দৈর্ঘ্যে দাগসংখ্যা N = 1a + b।
গ্রেটিং সমীকরণ: (a + b) sinθ = nλ; মূল গ্রেটিং থেকে সেলুলয়েড বা কলোডিয়নে ছাপ নিয়ে তৈরি প্রতিলিপি গ্রেটিংও এক প্রকার নিঃসরণ গ্রেটিং। -
৪৫৫
ধ্বংসাত্মক ব্যতিচারের জন্য পথ পার্থক্য কী হবে ?
- ক nλ
- খ nλ2
- গ (2n + 1)λ2
- ঘ (n + 1)λ2
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) (2n + 1)λ2
পথ পার্থক্য অর্ধ-তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিজোড় গুণিতক (2n + 1)λ2 হলে দশা পার্থক্য π-এর বিজোড় গুণিতক হয়; তরঙ্গদ্বয় বিপরীত দশায় মিলিত হয়ে ধ্বংসাত্মক ব্যতিচার (অন্ধকার ডোরা) সৃষ্টি করে। -
৪৫৬
ইয়ং এর দ্বি-চির পরীক্ষায় চিড় দুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব 2 mm। এ চিড় থেকে 1 m দূরত্বে ডোরা ব্যবধান 0.295 mm পাওয়া গেল। আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কত?
- ক 4900 Å
- খ 5900 Å
- গ 6900 Å
- ঘ 7900 Å
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) 5900 Å
এখানে, d = 2 mm = 2 × 10−3 m, D = 1 m, Δx = 0.295 mm = 0.295 × 10−3 m
λ = Δx × dD = 0.295 × 10−3 × 2 × 10−31 = 5.9 × 10−7 m = 5900 Å -
৪৫৭
আলোর গতি কত?
- ক 3 × 108 ms−1
- খ 3 × 107 ms−1
- গ 3 × 106 ms−1
- ঘ 3 × 1010 ms−1
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) 3 × 108 ms−1
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ c = 3 × 108 ms−1 (সঠিক মান 2.99792458 × 108 ms−1) = 3 × 1010 cm s−1।
আলোর বেগ প্রথম পরিমাপ করেন রোমার (1676, বৃহস্পতির উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ); ফিজো (1849) দাঁতযুক্ত চাকা ও ফুকো ঘূর্ণায়মান দর্পণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন।
মাধ্যমে আলোর বেগ v = cμ; পানিতে 2.25 × 108 ms−1, কাচে 2 × 108 ms−1।
c = 1μ0ε0; সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে প্রায় 8 min 20 s লাগে। -
৪৫৮
অবলোহিত রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য নিম্নের কোনটি?
- ক 0.01 Å − 1.4 Å
- খ 0.04 cm − 40 cm
- গ 0.06 Å − 1400 Å
- ঘ 10−3 m − 4 × 10−7 m
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) 10−3 m − 4 × 10−7 m
অবলোহিত (infrared) রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য দৃশ্যমান লাল আলোর (প্রায় 7 × 10−7 m) চেয়ে বড় ও মাইক্রোওয়েভের (10−3 m) চেয়ে ছোট; অপশনগুলোর মধ্যে 10−3 m − 4 × 10−7 m পাল্লাটিই এ অঞ্চলের।
অবলোহিত রশ্মি উত্তপ্ত বস্তু নির্গত করে, তাপীয় প্রভাব সবচেয়ে বেশি, কুয়াশা ভেদ করে; আবিষ্কারক হার্শেল।
দৃশ্যমান আলো 4 × 10−7 m − 7 × 10−7 m (4000 Å − 7000 Å), অতিবেগুনি 10−8 m − 4 × 10−7 m।
X-রশ্মি প্রায় 0.01 Å − 100 Å, গামা রশ্মি 0.01 Å-এর কম; রেডিও তরঙ্গ 10−1 m-এর বেশি। সব তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ শূন্যে c = 3 × 108 m s−1 বেগে চলে, c = fλ। -
৪৫৯
বাতাসে আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য হচ্ছে 4800 Å। গ্লাসে আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য নিম্নের কোনটি?
- ক 3200 Å
- খ 320 Å
- গ 32 Å
- ঘ কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) 3200 Å
এখানে, বাতাসে λ = 4800 Å, কাচের প্রতিসরাঙ্ক n = 1.5
প্রতিসরণে কম্পাঙ্ক অপরিবর্তিত, বেগ ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য n গুণ কমে
λ' = λn = 48001.5 = 3200 Å -
৪৬০
নিম্নের কোনটি তাড়িত চৌম্বক তরঙ্গের জন্য সঠিক তথ্য?
- ক তড়িত চৌম্বক বিকিরণে শুধুই দৃশ্যমান আলো থাকে
- খ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে এক্সরে ব্যবহৃত হয়
- গ অবলোহিত বিকিরণের তরংগদৈর্ঘ্য 10−11 m থেকে 10−15 m
- ঘ বেতার তরঙ্গের দৈর্ঘ্য 10−4 থেকে 5 × 104 m
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) বেতার তরঙ্গের দৈর্ঘ্য 10−4 থেকে 5 × 104 m
তাড়িতচৌম্বক বর্ণালিতে তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনুযায়ী (বড় থেকে ছোট): বেতার তরঙ্গ 5 × 104 m থেকে 10−4 m, মাইক্রোওয়েভ 10−1 থেকে 10−3 m, অবলোহিত 10−3 থেকে 7 × 10−7 m, দৃশ্যমান আলো 7 × 10−7 থেকে 4 × 10−7 m, অতিবেগুনি 4 × 10−7 থেকে 10−9 m, এক্স-রে 10−9 থেকে 10−12 m, গামা রশ্মি 10−11 থেকে 10−15 m।
সব তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ শূন্যে c = 3 × 108 ms−1 বেগে চলে, অনুপ্রস্থ ও সমবর্তনযোগ্য; c = fλ।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে রাডার ও কৃত্রিম উপগ্রহে অবলোহিত ও মাইক্রোওয়েভ ব্যবহৃত হয়, এক্স-রে নয়।
ভৌত আলোকবিজ্ঞান নিয়ে পরীক্ষা দাও
শুধু এই অধ্যায়ের প্রশ্ন দিয়ে একটা এক্সাম বানাও — সময় ধরে, নেগেটিভ মার্কিংসহ।