জ্যোতির্বিজ্ঞান — বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও সমাধান
HSC পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্রের ১১তম অধ্যায়। এখানে ২৯৩টি প্রশ্ন আছে — বোর্ড, ঢাবি, বুয়েট আর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা থেকে বাছাই করা, প্রতিটার নিচে পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া। উত্তর দেখার আগে নিজে একবার চেষ্টা করে নিও।
-
১০১
একটি ছায়াপথ (galaxy) বলতে কী বোঝায়?
- ক একটি নক্ষত্র ও তার গ্রহগুলো
- খ কয়েকটি গ্রহের সমষ্টি
- গ একটি বিশাল নক্ষত্র
- ঘ অভিকর্ষে আবদ্ধ কোটি কোটি নক্ষত্র, গ্যাস ও ধূলিকণার বিশাল ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) অভিকর্ষে আবদ্ধ কোটি কোটি নক্ষত্র, গ্যাস ও ধূলিকণার বিশাল ব্যবস্থা
আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গা (Milky Way) — প্রায় 1011টি নক্ষত্র, ব্যাস প্রায় 1 লক্ষ আলোকবর্ষ।
সূর্য কেন্দ্র থেকে প্রায় 26,000 আলোকবর্ষ দূরে এবং প্রায় 23 কোটি বছরে একবার কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করে।
পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বে প্রায় 2 লক্ষ কোটি ছায়াপথ আছে।
একটি নক্ষত্র ও তার গ্রহ মিলে হয় নাক্ষত্রিক ব্যবস্থা, ছায়াপথ নয়। -
১০২
একটি নক্ষত্রের প্যারালাক্স কোণ অন্যটির চার গুণ। তাদের দূরত্বের অনুপাত কত?
- ক 4 : 1
- খ 1 : 2
- গ 16 : 1
- ঘ 1 : 4
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) 1 : 4
d ∝ 1p
d1d2 = p2p1 = 14 ⟹ 1 : 4
অর্থাৎ বড় প্যারালাক্সের নক্ষত্রটি চার গুণ কাছে।
হাত সামনে ধরে এক চোখ বন্ধ করে দেখলেই এই নীতি বোঝা যায় — কাছের জিনিস বেশি সরে যায়, দূরের কম। -
১০৩
একটি নক্ষত্র মূল ক্রম (main sequence) দশায় কী করে?
- ক হিলিয়াম সংযোজিত হয়ে কার্বন তৈরি করে
- খ কেন্দ্রে হাইড্রোজেন সংযোজিত হয়ে হিলিয়াম তৈরি করে
- গ ইউরেনিয়াম বিভাজিত হয়
- ঘ কেবল অভিকর্ষীয় সংকোচনে শক্তি পায়
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) কেন্দ্রে হাইড্রোজেন সংযোজিত হয়ে হিলিয়াম তৈরি করে
মূল ক্রম দশায় অভিকর্ষীয় সংকোচন ও বিকিরণ চাপের মধ্যে ভারসাম্য থাকে।
শক্তির উৎস — 41H → 4He + 26.7 MeV
নক্ষত্র তার জীবনের প্রায় 90 % সময় এই দশায় কাটায়; সূর্য প্রায় 460 কোটি বছর ধরে এখানেই আছে, আরও প্রায় 500 কোটি বছর থাকবে।
হিলিয়াম সংযোজন শুরু হয় অনেক পরে, লোহিত দানব দশায়। -
১০৪
সূর্যের মতো ভরের একটি নক্ষত্রের শেষ পরিণতি কী?
- ক লোহিত দানব হয়ে বাইরের স্তর ছুঁড়ে ফেলে শ্বেত বামনে পরিণত হয়
- খ সরাসরি কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হয়
- গ সুপারনোভা বিস্ফোরণে নিউট্রন তারা হয়
- ঘ চিরকাল মূল ক্রমেই থাকে
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) লোহিত দানব হয়ে বাইরের স্তর ছুঁড়ে ফেলে শ্বেত বামনে পরিণত হয়
হাইড্রোজেন ফুরালে কেন্দ্র সংকুচিত হয়, বাইরের স্তর ফুলে ওঠে ⟹ লোহিত দানব
পরে বাইরের স্তর ছড়িয়ে গিয়ে গ্রহ-নীহারিকা তৈরি করে, আর কেন্দ্রটি থেকে যায় শ্বেত বামন হিসেবে — পৃথিবীর আকারের, কিন্তু সূর্যের অর্ধেক ভরের।
শ্বেত বামনে আর সংযোজন হয় না; সে কেবল জমানো তাপ বিকিরণ করে ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়।
নিউট্রন তারা বা কৃষ্ণগহ্বর হতে হলে অনেক বেশি ভর লাগে। -
১০৫
চন্দ্রশেখর সীমা কী নির্দেশ করে?
- ক একটি নক্ষত্রের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
- খ কৃষ্ণগহ্বরের ব্যাসার্ধ
- গ মহাবিশ্বের বয়স
- ঘ একটি শ্বেত বামনের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ভর, প্রায় 1.44 সৌরভর
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) একটি শ্বেত বামনের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ভর, প্রায় 1.44 সৌরভর
শ্বেত বামন টিকে থাকে ইলেকট্রন অবক্ষয় চাপে (electron degeneracy pressure), যা কোয়ান্টাম বর্জন নীতি থেকে আসে।
ভর 1.44 সৌরভর ছাড়ালে এই চাপ আর অভিকর্ষ ঠেকাতে পারে না ⟹ আরও সংকুচিত হয়ে নিউট্রন তারা বা কৃষ্ণগহ্বর হয়।
সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর মাত্র 19 বছর বয়সে এটি হিসাব করেন এবং পরে নোবেল পান।
নিউট্রন তারার জন্যও অনুরূপ একটি সীমা আছে (≈3 সৌরভর) — তার উপরে কৃষ্ণগহ্বর। -
১০৬
নিউট্রন তারা কীভাবে তৈরি হয়?
- ক সূর্যের মতো নক্ষত্র ঠান্ডা হয়ে
- খ অতি ভারী নক্ষত্রের সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর কেন্দ্র সংকুচিত হয়ে
- গ দুটি গ্রহের সংঘর্ষে
- ঘ ছায়াপথের কেন্দ্রে গ্যাস জমে
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) অতি ভারী নক্ষত্রের সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর কেন্দ্র সংকুচিত হয়ে
ভারী নক্ষত্রে (8–25 সৌরভর) কেন্দ্রে লোহা তৈরি হলে সংযোজনে আর শক্তি মেলে না ⟹ কেন্দ্র হঠাৎ ভেঙে পড়ে ⟹ সুপারনোভা বিস্ফোরণ।
প্রবল চাপে প্রোটন ও ইলেকট্রন মিলে নিউট্রনে পরিণত হয় ⟹ প্রায় পুরোটাই নিউট্রনের তৈরি একটি বস্তু।
ব্যাসার্ধ মাত্র ≈10 km, অথচ ভর সূর্যের চেয়ে বেশি ⟹ ঘনত্ব নিউক্লিয়ার পর্যায়ের (1017 kg m−3)।
দ্রুত ঘূর্ণনশীল নিউট্রন তারাকেই আমরা পালসার হিসেবে শনাক্ত করি। -
১০৭
কৃষ্ণগহ্বর থেকে আলো বেরোতে পারে না কেন?
- ক ঘটনা দিগন্তের ভেতরে মুক্তিবেগ আলোর বেগের চেয়েও বেশি
- খ কৃষ্ণগহ্বরে আলো শোষিত হয়ে যায়
- গ কৃষ্ণগহ্বরের তাপমাত্রা শূন্য
- ঘ কৃষ্ণগহ্বরে কোনো ভর নেই
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) ঘটনা দিগন্তের ভেতরে মুক্তিবেগ আলোর বেগের চেয়েও বেশি
মুক্তিবেগ ve = 2GMR
M বিশাল ও R অতি ক্ষুদ্র হলে ve > c ⟹ আলোও পালাতে পারে না
যে ব্যাসার্ধে ve = c হয়, তাকে বলে শোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ: Rs = 2GMc2
সূর্যের ভরের জন্য এটি মাত্র 3 km; পৃথিবীর জন্য 9 mm!
কৃষ্ণগহ্বরের ভর বিপুল — শূন্য নয়; তার অভিকর্ষই তো সব। -
১০৮
সূর্যের ভর 2 × 1030 kg। এর শোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ প্রায় কত? (G = 6.67 × 10−11)
- ক 3 km
- খ 30 km
- গ 300 m
- ঘ 9 mm
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) 3 km
Rs = 2GMc2 = 2 × 6.67 × 10−11 × 2 × 10309 × 1016
= 2.67 × 10209 × 1016 ≈ 2.96 × 103 m ≈ 3 km
অর্থাৎ সূর্যকে যদি 3 km ব্যাসার্ধে চেপে ফেলা যেত, সে কৃষ্ণগহ্বর হয়ে যেত।
সূর্যের প্রকৃত ব্যাসার্ধ 7 লক্ষ km — তাই সে কখনও কৃষ্ণগহ্বর হবে না; তার ভর যথেষ্ট নয়। -
১০৯
হাবলের সূত্র কী বলে?
- ক সব ছায়াপথ একই বেগে সরছে
- খ একটি ছায়াপথের অপসারণ বেগ তার দূরত্বের সমানুপাতিক
- গ কাছের ছায়াপথ দ্রুত সরছে
- ঘ ছায়াপথগুলো পরস্পরের কাছে আসছে
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) একটি ছায়াপথের অপসারণ বেগ তার দূরত্বের সমানুপাতিক
v = H0d
যেখানে H0 ≈ 70 km s−1 Mpc−1
অর্থাৎ ছায়াপথ যত দূরে, তত দ্রুত সরে যাচ্ছে ⟹ মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে
এটি বিস্ফোরণে ছিটকে পড়া নয় — স্থান নিজেই প্রসারিত হচ্ছে, তাই প্রতিটি পর্যবেক্ষকেরই মনে হয় সে কেন্দ্রে আছে।
ফুলতে থাকা বেলুনের গায়ে আঁকা বিন্দুগুলোর মতো — কোনো বিন্দুই কেন্দ্র নয়। -
১১০
দূরের ছায়াপথের বর্ণালিতে লোহিত সরণ দেখা যায়। এর অর্থ কী?
- ক ছায়াপথটি আমাদের দিকে আসছে
- খ ছায়াপথটি লাল রঙের
- গ ছায়াপথটি আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে
- ঘ ছায়াপথটি খুব গরম
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) ছায়াপথটি আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে
দূরে সরে যাওয়া উৎসের বর্ণালি রেখা বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (লাল) দিকে সরে যায় — এটি ডপলার ক্রিয়ার আলোক সংস্করণ।
Δλλ = vc (ছোট বেগের জন্য)
কাছে এলে হতো নীল সরণ — অ্যান্ড্রোমিডা ছায়াপথে ঠিক তা-ই দেখা যায়, সে আমাদের দিকেই আসছে।
ছায়াপথের প্রকৃত রং বা তাপমাত্রার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই; পরিচিত বর্ণালি রেখার অবস্থান দেখেই এটি মাপা হয়। -
১১১
একটি ছায়াপথের দূরত্ব 100 Mpc এবং H0 = 70 km s−1 Mpc−1। এর অপসারণ বেগ কত?
- ক 700 km s−1
- খ 70 km s−1
- গ 7000 km s−1
- ঘ 1.4 km s−1
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) 7000 km s−1
v = H0d = 70 × 100 = 7000 km s−1
এটি আলোর বেগের প্রায় 2.3 % ⟹ লোহিত সরণ Δλλ ≈ 0.023
অর্থাৎ 500 nm-এর একটি রেখা দেখা যাবে প্রায় 511.5 nm-এ।
আরও দূরের ছায়াপথে বেগ এত বেশি হয় যে আপেক্ষিক সূত্র ব্যবহার করতে হয়। -
১১২
হাবল ধ্রুবকের অন্যোন্যক 1H0 কী নির্দেশ করে?
- ক মহাবিশ্বের ব্যাসার্ধ
- খ মহাবিশ্বের আনুমানিক বয়স
- গ আলোর বেগ
- ঘ ছায়াপথের ভর
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) মহাবিশ্বের আনুমানিক বয়স
v = H0d ⟹ t = dv = 1H0
অর্থাৎ প্রসারণ হার স্থির ধরলে সব ছায়াপথ এক বিন্দুতে থাকার পর এই সময়ই কেটেছে।
H0 ≈ 70 km s−1 Mpc−1 বসালে t ≈ 1400 কোটি বছর — আধুনিক পরিমাপের (1380 কোটি) খুব কাছাকাছি।
একে বলে হাবল কাল। প্রসারণ হার সময়ের সাথে বদলেছে, তাই এটি আনুমানিক মান। -
১১৩
একটি ছায়াপথের বর্ণালিতে 500 nm-এর একটি রেখা 505 nm-এ দেখা গেল। ছায়াপথটির অপসারণ বেগ কত?
- ক 3 × 108 m s−1
- খ 3 × 105 m s−1
- গ 3 × 106 m s−1
- ঘ 1.5 × 106 m s−1
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) 3 × 106 m s−1
Δλλ = 505 − 500500 = 5500 = 0.01
v = 0.01 × c = 0.01 × 3 × 108 = 3 × 106 m s−1 = 3000 km s−1
H0 = 70 ধরলে দূরত্ব ≈ 300070 ≈ 43 Mpc ≈ 14 কোটি আলোকবর্ষ।
তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেড়েছে ⟹ লোহিত সরণ ⟹ ছায়াপথটি দূরে সরছে ✓। -
১১৪
মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) তত্ত্বের প্রধান পর্যবেক্ষণমূলক প্রমাণ কোনটি?
- ক সূর্যের আলো
- খ চাঁদের কক্ষপথ
- গ ছায়াপথের লোহিত সরণ ও মহাজাগতিক পটভূমি বিকিরণ
- ঘ ধূমকেতুর লেজ
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) ছায়াপথের লোহিত সরণ ও মহাজাগতিক পটভূমি বিকিরণ
তিনটি প্রধান প্রমাণ:
① লোহিত সরণ — সব ছায়াপথ দূরে সরছে ⟹ অতীতে সব কাছাকাছি ছিল
② মহাজাগতিক অণুবীক্ষণ পটভূমি বিকিরণ (CMB) — 2.7 K-এর অবশিষ্ট তাপ
③ হালকা মৌলের অনুপাত — প্রায় 75 % হাইড্রোজেন, 25 % হিলিয়াম, যা তত্ত্বের ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে হুবহু মেলে
সূর্যের আলো বা চাঁদের কক্ষপথ সৌরজগতের ব্যাপার — মহাবিশ্বের উৎপত্তির সাক্ষ্য নয়। -
১১৫
মহাজাগতিক পটভূমি বিকিরণের বর্তমান তাপমাত্রা প্রায় কত?
- ক 270 K
- খ 2.7 K
- গ 27 K
- ঘ 0 K
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) 2.7 K
মহাবিস্ফোরণের প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার বছর পর মহাবিশ্ব যথেষ্ট ঠান্ডা হয়ে স্বচ্ছ হয় এবং আলো মুক্তভাবে চলতে শুরু করে।
তখন সেই বিকিরণের তাপমাত্রা ছিল প্রায় 3000 K; প্রসারণে তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়ায় তা এখন নেমে এসেছে 2.7 K-এ।
ভিনের সূত্রে λm = 2.9 × 10−32.7 ≈ 1 mm ⟹ অণুবীক্ষণ তরঙ্গ অঞ্চল।
পেনজিয়াস ও উইলসন 1965-এ এটি আকস্মিকভাবে আবিষ্কার করে নোবেল পান — মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বের সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ। -
১১৬
মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
- ক স্থান নিজেই প্রসারিত হচ্ছে, তাই কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্র নেই
- খ ছায়াপথগুলো একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে ছিটকে যাচ্ছে
- গ কেবল আমাদের ছায়াপথ স্থির
- ঘ মহাবিশ্বের আকার অপরিবর্তিত
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ক) স্থান নিজেই প্রসারিত হচ্ছে, তাই কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্র নেই
মহাবিস্ফোরণ স্থানের কোনো এক বিন্দুতে ঘটেনি — এটি ঘটেছে সর্বত্র, একসাথে।
ছায়াপথগুলো স্থানের ভেতর দিয়ে ছুটছে না; বরং তাদের মাঝের স্থানই প্রসারিত হচ্ছে।
ফলে যেকোনো ছায়াপথ থেকে দেখলেই মনে হবে বাকি সবাই দূরে সরছে ⟹ কোনো কেন্দ্র নেই
ফুলতে থাকা বেলুনের পৃষ্ঠে আঁকা বিন্দুগুলোর মতো — পৃষ্ঠের কোনো বিন্দুই কেন্দ্র নয়। এ কারণেই দূরের ছায়াপথের আপাত অপসারণ বেগ c-এর চেয়েও বেশি হতে পারে, তাতে আপেক্ষিকতা ভাঙে না। -
১১৭
পজিট্রনের ভর কোন কণার ভরের সমান ?
- ক প্রোটন
- খ ইলেকট্রন
- গ α-কণা
- ঘ নিউট্রন
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ইলেকট্রন
পজিট্রন হলো ইলেকট্রনের প্রতিকণা; এর ভর ইলেকট্রনের ভরের সমান (9.1 × 10-31 kg), শুধু আধান বিপরীত (+1.6 × 10-19 C)। -
১১৮
পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহ কোনটি?
- ক শনি
- খ বুধ
- গ শুক্র
- ঘ বৃহস্পতি
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) শুক্র
সর্বনিম্ন দূরত্বের হিসাবে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহ শুক্র, প্রায় 4.1 কোটি km (মঙ্গল সর্বনিম্ন প্রায় 5.5 কোটি km)।
শুক্র আকাশের উজ্জ্বলতম গ্রহ, একে শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা বলা হয়; এর বায়ুমণ্ডলে CO2 বেশি থাকায় গ্রিনহাউস প্রভাবে এটি সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ (প্রায় 460 °C)।
শুক্র নিজ অক্ষে পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘোরে, এর একদিন এক বছরের চেয়ে লম্বা।
বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের ও ক্ষুদ্রতম গ্রহ, বৃহস্পতি সবচেয়ে বড়, শনির বলয় সুস্পষ্ট। -
১১৯
মহাবিশ্বে নিচের কোনটির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
- ক ডার্ক এনার্জি বস্তুসমূহ
- খ নীহারিকা সমূহ
- গ কৃষ্ণ গহ্বর সমূহ
- ঘ গ্যালাক্সি সমূহ
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) কৃষ্ণ গহ্বর সমূহ
আনুমানিক হিসাবে মহাবিশ্বে কৃষ্ণ গহ্বরের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। গ্যালাক্সির সংখ্যা প্রায় 1011 থেকে 2 × 1012, অথচ শুধু আকাশগঙ্গাতেই প্রায় 108 নাক্ষত্রিক কৃষ্ণ গহ্বর আছে, তাই এরা গ্যালাক্সি বা নীহারিকার চেয়ে বহুগুণ বেশি।
প্রায় 20 M☉-এর বেশি ভরের নক্ষত্র সুপারনোভার পর যদি প্রায় 3 M☉-এর বেশি ভরের কেন্দ্র রেখে যায়, তা কৃষ্ণ গহ্বর হয়; প্রায় প্রতিটি বড় গ্যালাক্সির কেন্দ্রেও একটি অতিভারী কৃষ্ণ গহ্বর থাকে।
কৃষ্ণ গহ্বরের মুক্তিবেগ আলোর বেগের চেয়ে বেশি; সীমানা ঘটনা দিগন্ত, ব্যাসার্ধ Rs = 2GMc2।
ডার্ক এনার্জি গণনাযোগ্য বস্তু নয়, এটি মহাবিশ্বের ত্বরিত প্রসারণের জন্য দায়ী শক্তি, মোট শক্তি-ভরের প্রায় 68%। -
১২০
আবর্তনের সময় চন্দ্র ও সূর্যের মাঝে পৃথিবী এসে পড়লে নিচের কোন ঘটনাটি ঘটে?
- ক সূর্যগ্রহণ
- খ পূর্ণিমা
- গ চন্দ্রগ্রহণ
- ঘ অমাবস্যা
সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) চন্দ্রগ্রহণ
পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝে এসে তিনটি একই সরলরেখায় থাকে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে, এটিই চন্দ্রগ্রহণ; এটি সবসময় পূর্ণিমা তিথিতে হয়।
সূর্যগ্রহণে চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে আসে, ঘটে অমাবস্যা তিথিতে।
পূর্ণিমা ও অমাবস্যা চাঁদের দশা মাত্র, গ্রহণ নয়; চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষতলের সাথে প্রায় 5° হেলানো বলে প্রতি পূর্ণিমা বা অমাবস্যায় গ্রহণ হয় না।
চন্দ্রগ্রহণ পূর্ণ, আংশিক বা উপচ্ছায়া হতে পারে; সূর্যগ্রহণ পূর্ণ, আংশিক বা বলয়গ্রাস।
জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে পরীক্ষা দাও
শুধু এই অধ্যায়ের প্রশ্ন দিয়ে একটা এক্সাম বানাও — সময় ধরে, নেগেটিভ মার্কিংসহ।